ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কোনো সামরিক সমাধান নেই। ইরানে হামলা নিয়ে পেন্টাগনের সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক এমএস নাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা ও বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কর্মসূচি বন্ধ করা যায়নি। তাঁর ভাষায়, “সামরিক হামলায় এই কর্মসূচির অবসান সম্ভব নয়।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ১০–১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
আরাগচি জানান, এ সপ্তাহে জেনেভায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিছু মৌলিক নীতিতে অগ্রগতি হলেও তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যালোচনায় যাবে এবং সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে।
ইরানে বিক্ষোভ দমন ও প্রাণহানির সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, কয়েক মাসে ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে ইরান সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হরানা বলেছে, তারা ৭ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে।
এদিকে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জেনেভা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়নি এবং ইরানও তা স্থগিতের প্রস্তাব দেয়নি বলে আরাগচি উল্লেখ করেন। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।