ইরান আবারও পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-এর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। শুক্রবার ভোরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপ আয়োজন করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।
পটভূমি
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভেতরে জঙ্গি হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না। সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব
আরাগচি তার পোস্টে বলেন, “সুপ্রতিবেশী নীতির ভিত্তিতে মতপার্থক্য নিরসনই একমাত্র পথ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তেজনা বাড়িয়ে নয়, বরং গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।
ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে আলোচনার জন্য একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম দিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে কূটনৈতিক সহায়তা, কারিগরি সমন্বয় এবং আস্থা-গঠনের পদক্ষেপেও সহযোগিতা করবে তেহরান।
আঞ্চলিক গুরুত্ব
ইরান নিজেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ। তাই সীমান্তে অস্থিতিশীলতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও শরণার্থী সংকটকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির থাকায়, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ উদ্যোগ একদিকে কূটনৈতিক সক্রিয়তার বার্তা, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজেদের ভূমিকা জোরালো করার প্রচেষ্টা।
পূর্বের উদ্যোগ
এটি প্রথম নয়—এর আগেও সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ার সময় ইরান মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট জটিলতার কারণে স্থায়ী সমাধান এখনও সম্ভব হয়নি।
বর্তমান প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে কাবুল ও ইসলামাবাদ কতটা আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসতে আগ্রহী তার ওপর। তবে কূটনৈতিক মহলে আশা করা হচ্ছে, সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথ বেছে নিলে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।